রায়গঞ্জের সরস্বতী মূর্তির জয়জয়কার: সাধ্যের মধ্যে সেরা শিল্পকলা টানছে বিহারের ক্রেতাদেরও

তন্ময় চক্রবর্তী : সরস্বতী পুজোর প্রাক্কালে খুশির হাওয়া উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের পালপাড়ায়। এ বছর বাগদেবীর আরাধনায় রায়গঞ্জের মৃৎশিল্পীদের তৈরি প্রতিমার চাহিদা তুঙ্গে। শুধু স্থানীয় এলাকাতেই নয়, প্রতিবেশী রাজ্য বিহারের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও কাতারে কাতারে মানুষ আসছেন রায়গঞ্জের মূর্তি সংগ্রহ করতে। ফলে দীর্ঘ মন্দা কাটিয়ে লাভের মুখ দেখছেন স্থানীয় শিল্পীরা।সীমানা ছাড়িয়ে প্রতিমার খ্যাতি মৃৎশিল্পীদের সূত্রে জানা গেছে, বিহারের কাটিহার জেলার বিভিন্ন এলাকা যেমন— কাচনা, ধাচনা, সালমারি, মুকুরিয়া, নবগাছিয়া, সোলানি, বারসোই এবং তেল্টা থেকে ক্রেতারা ভিড় করছেন রায়গঞ্জে। মূলত রাধিকাপুর-কাটিহার প্যাসেঞ্জার ট্রেনে করে এই মূর্তিগুলো বিহারের বিভিন্ন গন্তব্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

 

সরস্বতী পুজোর অন্তত পাঁচ দিন আগে থেকেই বিহারের ক্রেতারা মূর্তি কিনতে আসতে শুরু করেছেন, যা গত কয়েক বছরের তুলনায় অনেকটাই বেশি।কেন রায়গঞ্জের মূর্তির এত কদর?বিহারের বারসোই থেকে আসা ক্রেতা সুমন কুমার এবং কাটিহারের ছাত্র নেহাল যাদব জানান, রায়গঞ্জের মূর্তির বিশেষত্ব হলো এর নিখুঁত কারুকাজ এবং সাশ্রয়ী দাম। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী:দামের পার্থক্য: রায়গঞ্জে যে মানের মূর্তি ১,০০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে, বিহারের বাজারে সমমানের মূর্তির দাম প্রায় ৩,০০০ টাকা।এখানকার শিল্পীদের হাতের কাজ এবং মূর্তির ফিনিশিং অন্য জায়গার তুলনায় অনেক বেশি আকর্ষণীয়।লাভের আশায় মৃৎশিল্পীরা​কাঞ্চনপল্লীর বিশিষ্ট মৃৎশিল্পী ভানু পাল জানান, “বিহারের কাটিহার জেলা থেকে মূর্তির চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। আমাদের এখানে দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় এবং গুণমান ভালো হওয়ায় স্কুল, কলেজ ও কোচিং সেন্টারের পড়ুয়ারা ভিড় করছেন। এ বছর কিছুটা লাভের আশা করছি।রায়গঞ্জ থেকে প্রতিমা যাচ্ছে কাটিহারের বিভিন্ন প্রান্তে।পরিবহন: রাধিকাপুর-কাটিহার প্যাসেঞ্জার ট্রেনের মাধ্যমে পৌঁছে যাচ্ছে প্রতিমা।আকর্ষণ: সাধ্যের মধ্যে দাম ও অসাধারণ সূক্ষ্ম শিল্পকলা।