​কালিয়াগঞ্জে তৃণমূলের ‘উন্নয়নের পাঁচালী’: আসন্ন বিধানসভায় বিরোধীদের কাছে কতটা বড় চ্যালেঞ্জ?

তন্ময় চক্রবর্তী: নীলবাড়ির লড়াইয়ের দামামা বাজতে খুব বেশি দেরি নেই। আর এই আবহে কালিয়াগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের রাজনৈতিক সমীকরণ এখন তুঙ্গে। গত কয়েক বছরে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস কালিয়াগঞ্জে উন্নয়নের যে ‘পাঁচালী’ সাজিয়েছে, তা আসন্ন নির্বাচনে বিরোধীদের জন্য ঠিক কতটা বড় ‘ফ্যাক্টর’ হয়ে দাঁড়াবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।উন্নয়নের খতিয়ান বনাম বিরোধীদের যুক্তি:রাজ্য সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’, ‘কন্যাশ্রী’, ‘যুবশ্রী’ থেকে শুরু করে কালিয়াগঞ্জ ব্লকের রাস্তাঘাট ও পানীয় জলের পরিকাঠামো উন্নয়ন—তৃণমূলের প্রচারের প্রধান অস্ত্র এখন এগুলিই। তৃণমূল শিবিরের দাবি, কালিয়াগঞ্জের মানুষ দু’হাত ভরে উন্নয়ন পেয়েছে, তাই ভোটের বাক্সে তার প্রতিফলন ঘটবেই।

অন্যদিকে, বিজেপি এবং বাম-কংগ্রেস জোট এই উন্নয়নের দাবিকে মানতে নারাজ। বিরোধীদের অভিযোগ, উন্নয়নের নামে আসলে ‘ভেক’ ধরা হয়েছে। কর্মসংস্থানের অভাব এবং গ্রামীণ এলাকার একাংশে পরিকাঠামোগত সমস্যাকে ঢাল করে পাল্টা প্রচার চালাচ্ছে তারা। বিজেপি শিবিরের মতে, লোকসভা ভোটের ফলাফল অনুযায়ী অনেক বুথে তারা শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে, যা বিধানসভাতেও ইতিবাচক ফল দেবে।ফ্যাক্টর হতে পারে রাজবংশী ভোট:কালিয়াগঞ্জের নির্বাচনে সবসময়ই একটি বড় ফ্যাক্টর হলো রাজবংশী সম্প্রদায়ের ভোট। তৃণমূলের তরফে রাজবংশী উন্নয়ন পর্ষদ ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নের বিষয়গুলি তুলে ধরা হচ্ছে। পাল্টা বিজেপি হিন্দুত্ব এবং এনআরসি-সিএএ ইস্যুর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্পের সুবিধাগুলিকে সামনে রেখে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করছে।​ত্রিমুখী লড়াইয়ের ইঙ্গিত:রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের লড়াই কেবল দ্বিমুখী নয়, বরং কালিয়াগঞ্জে বাম-কংগ্রেস জোটও নিজেদের হারানো জমি পুনরুদ্ধারে মরিয়া। বিশেষ করে সমবায় নির্বাচনগুলোতে সাম্প্রতিক কিছু জয় বিরোধীদের বাড়তি অক্সিজেন দিচ্ছে। তবে তৃণমূলের সুসংগঠিত বুথ স্তরের কাজ এবং সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের বিশাল সংখ্যা বিরোধীদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।শেষ পর্যন্ত কালিয়াগঞ্জের মানুষের কাছে ‘উন্নয়নের পাঁচালী’ নাকি ‘পরিবর্তনের হাওয়া’—কোনটি জয়ী হয়, তা সময়ই বলবে। তবে ভোট যত এগোবে, কালিয়াগঞ্জের এই রাজনৈতিক পারদ যে আরও চড়বে, তা বলাই বাহুল্য