August 17, 2022

রায়গঞ্জ হাসপাতালে বেহাল স্বাস্থ্য পরিসেবার প্রতিবাদে উত্তর দিনাজপুর জেলা যৌথ স্বেচ্ছা সেবী মঞ্চের পক্ষ থেকে ডেপুটেশন

1 min read

রায়গঞ্জ হাসপাতালে বেহাল স্বাস্থ্য পরিসেবার প্রতিবাদে উত্তর দিনাজপুর জেলা যৌথ স্বেচ্ছা সেবী মঞ্চের পক্ষ থেকে ডেপুটেশন

তপন চক্রবর্তী, কালিয়াগঞ্জ,২৮ জানুয়ারি:রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে বেহাল স্বাস্থ্য পরিষেবা ও একাংশ কর্মীদের দুর্ব্যবহারের প্রতিবাদে উত্তর দিনাজপুর জেলার অধিকাংশ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মিলে গত ২৮ শে জানুয়ারি বৃহস্পতিবার রায়গঞ্জ হাসপাতালের MSVP প্রিয়ঙ্কর রায়ের হাতে ও আজ উত্তর দিনাজপুর জেলার DMG, রায়গঞ্জের বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণী সহ জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক পূরণ কুমার শর্মার হাতে ডেপুটেশন তুলে দেন। ডেপুটেশনের নেতৃত্ব দেন যথাক্রমে মুক্তির পথ রায়গঞ্জ সংস্থার সম্পাদক সামিম আক্তার, রায়গঞ্জ অগ্রগামী সংস্থার সম্পাদক মিনহাজ আহমেদ,সিস্টার নিবেদিতা সেবা প্রতিষ্ঠানের সহকারী সম্পাদক বিশ্বদীপ চক্রবর্তী, রায়গঞ্জ আন্তরিক সংস্থার সৈকত চক্রবর্তী, ফিড দি নীড সংস্থার সম্পাদক শুভঙ্কর ঘোষ, এবং শিল্পীনগর কল্যাণ সমিতির সম্পাদিকা পিয়ালী মন্ডল।

 


ডেপুটেশনে উল্লেখিত তাদের ১০ দফা দাবী হল-

১. স্বেচ্ছাসেবী ও রক্তদাতাদের প্রতি রায়গঞ্জ ব্লাড ব্যাংকের কিছু কর্মীদের দুর্ব্যবহার বন্ধ হোক।
২. তাৎক্ষণিক রক্ত দাতাদের ক্ষেত্রে ব্লাড সেন্টার থেকে রক্ত দানের ছবি তোলা বন্ধ করা হচ্ছে কেন তার উপযুক্ত কারণ জানানো হোক।
৩. তাৎক্ষণিক রক্তদাতাদের ক্ষেত্রে ব্লাড সেন্টার থেকে রক্ত দানের ছবি তোলার পাশাপাশি রক্তদাতাদের একটি সার্টিফিকেট ব্যান্ডেজ ও পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হোক।


৪. রক্ত দেওয়ার আগে রক্তদাতার হিমোগ্লোবিন ও ব্লাড প্রেসার পরীক্ষা করে রক্ত নেওয়া হোক।
৫. ব্লাড সেন্টার ১০ তলা থেকে এক তলায় নিয়ে আসার ব্যবস্থা করা হোক।
৬. যেখানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় করোনা প্রতিরোধের প্রধান অস্ত্র সেখানে রায়গঞ্জ হাসপাতাল চত্বরকে আবর্জনা ফেলার স্থান হিসেবে ব্যবহার করা বন্ধ হোক।
৭. হাসপাতালের অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা শৌচাগারকে অবিলম্বে রোগীদের ব্যবহারের উপযোগী করা হোক।
৮. রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে হুইল চেয়ার ও স্ট্রেচারের ব্যবস্থা করা হোক।
৯. যেখানে সরকারের পক্ষ থেকে সমস্ত স্বাস্থ্য পরিষেবা বিনামূল্যে দেওয়া উচিৎ সেখানে স্ট্রেচার ও অন্যান্য পরিষেবার জন্য কিছু অসাধু ব্যক্তিদের দ্বারা টাকা আদায় করা বন্ধ করা হোক।
১০. হাসপাতালের হেল্পলাইন নাম্বারের পরিষেবা অবিলম্বে চালু করা হোক।

উল্লেখিত দাবির ভিত্তিতে MSVP তাঁর কথার শুরুতেই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কাজে ভুয়সী প্রশংসা করে ১ নং দাবী নিয়ে বলেছেন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও রক্তদাতাদের প্রতি ব্লাড ব্যাংকের কর্মীদের দুর্ব্যবহার কখনোই কাম্য নয়। তিনি সকল স্টাফদের সাথে কথা বলে খুব শীঘ্রই এই সমস্যার সমাধান করবেন।

২ নং দাবী নিয়ে তিনি বলেছেন অন কল ডোনার স্থায়ীভাবে বন্ধ করার কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই, আমাদের মত জেলায় ভয়াবহ রক্ত সংকটের সময় ব্লাড ডোনেশন ক্যাম্পের অপেক্ষায় বসে থাকা রোগীকে মেরে ফেলার সামিল , তাই রক্তদান শিবিরের পরিমান বাড়াতে হবে, সাথে সাথে অন কল করেও রক্তদান চলবে। এর প্রয়োজনীয়তা অনেকটাই।

৩ নং দাবীর প্রসঙ্গে বলেছেন রক্তদানের পরে রক্তদাতার জন্য সামান্য জল অবশ্যই রক্তদাতার কাম্য। তিনি বলেন খুব শীঘ্রই জলের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি রক্তদাতাদের সার্টিফিকেট, ব্যাচ ও ব্যান্ডেজ প্রদান করা যায় কিনা তা তিনি মাথায় রেখেছেন।

৪ নং দাবির স্থায়ী সমাধান তিনি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন তাৎক্ষণিক রক্তদাতাদের ক্ষেত্রে রক্তদানের পূর্বে ব্লাড প্রেসার পরীক্ষা আবশ্যিক করা হবে । এর পাশাপাশি হিমোগ্লোবিন চেক করা যায় কিনা তা তিনি সরকারি নথিপত্র দেখে জানাবেন।

পঞ্চম দাবীর সমাধান সম্ভব নয় বলে তিনি জানিয়েছেন।

ষষ্ঠ দাবি সম্পর্কে তিনি নিজে আক্ষেপ করে বলেছেন এটা তাঁর কাছেও ভীষণ খারাপ লাগার বিষয়। কিভাবে এই সমস্যার সমাধান করা যায় তা তিনি ভেবে দেখবেন। এ প্রসঙ্গে সমস্ত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো জানিয়েছেন যদি তারা কোন কাজে লাগে তাহলে তারা অবশ্যই সহযোগিতা করবেন। এছাড়াও রোগীদের ও আত্মীয়দের হাসপাতালের ভেতর ও বাইরের পরিষ্কার পরিছন্নতা বজায় রাখার বিষয়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচির বিষয় নিয়ে তারা MSVP কে বলেন।

৭ নং দাবী নিয়ে তিনি একই কথা বলেন।

৮ নং দাবির প্রসঙ্গে বলেছেন, যে হুইল চেয়ার ও স্ট্রেচারগুলি ব্যবহারের অনুপযোগী সেগুলো ঠিক করার ব্যবস্থা করবেন। এছাড়াও পর্যাপ্ত পরিমাণে হুইলচেয়ার ও স্ট্রেচারের ব্যবস্থার বিষয়টি তিনি মাথায় রেখেছেন।

৯ নং দাবির প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন স্ট্রেচার এবং হুইল চেয়ার নিয়ে যাওয়া আসার জন্য যে অসাধু দালালচক্র চলছে প্রশাসনের সাহায্য নিয়ে তা অবিলম্বে বন্ধ করার চেষ্টা করবেন বলে তিনি জানিয়েছেন । এছাড়াও রক্ত সহ স্বাস্থ্যব্যবস্থার দালালচক্র বন্ধের জন্য প্রশাসনিক সাহায্য প্রার্থনা করেছেন তিনি। উল্লেখ্য এ বিষয়ে উত্তর দিনাজপুর জেলা যৌথ স্বেচ্ছাসেবী মঞ্চ -এর পক্ষ থেকে পুলিশ প্রশাসনকে লিখিতভাবে তারা আরজি জানাবেন বলে জানিয়েছে।

১০ নং দাবীর প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন এটি হওয়ার কথা নয়। তিনি খুব দ্রুত হেল্পলাইন নাম্বারের পরিষেবা চালু করবেন বলে আমাদের আশ্বস্ত করেছেন ।পাশাপাশি আজ জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সমস্ত বিষয় শুনে MSVP কে খুব দ্রুত এই সমস্ত সমস্যার সমাধান করার জন্য চিঠি করবেন বলে জানিয়েছেন।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মীরা প্রবল আশাবাদী যে অবিলম্বে এই সমস্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে। যদি সমস্যার সমাধান না হয় তাহলে আগামী দিনে তারা বৃহত্তর আন্দোলনের পথে নামবেন বলে জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য এদিন রায়গঞ্জ শহরের প্রায় বেশিরভাগ NGO এই প্রতিবাদ পত্র প্রদানে উপস্থিত থাকলেও রায়গঞ্জ মুক্তির কান্ডারীর অনুপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি। এ প্রসঙ্গে স্বেচ্ছাসেবীরা বলেন রক্তদান আন্দোলনে মুক্তির কাণ্ডারির ভূমিকা অসামান্য। তিনি বিগত দিনে সব সময় সবার সাথে ছিলেন এবং আছেন । আজ হয়তো কোন কারনে উপস্থিত হতে পারেননি।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.