August 15, 2022

সমগ্র বিশ্বের নিরিখে বেশ কিছুটা কদর বেড়েছে ভারতের। সৌজন্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

1 min read

প্রীতম সাঁতরাঃ :-সম্প্রতি সমগ্র বিশ্বের নিরিখে বেশ কিছুটা কদর বেড়েছে ভারতের। সৌজন্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একাধিক বিদেশে যাত্রা। ডোকলাম ইস্যু হোক বা জম্মু -কাশ্মীর সীমান্তবর্তী এলাকায় ভারতের রুখে দাড়ানোয় আন্তর্জাতিক নিরিখে বেশ সুনাম অর্জন করেছি আমরা। বৃদ্ধি পেয়েছে দেশে কোটিপতি মানুষের সংখ্যাও। কিন্তু ভারতবর্ষের অন্তরের চিত্রটাও কি একই রকম সুখকর? একটু মাথা কচলালে বোধহয় ধরা পরবে সম্পূর্ণ ভিন্ন ছবি, ভিন্ন ফলাফল। দেশের মোট জনসংখ্যার তুলনায় মুষ্ঠিমেয় একাংশ কোটি কোটি সম্পত্তির মালিক। অবশিষ্ট জনসংখ্যা মধ্যে রয়েছে মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র সমম্প্রদায় ভুক্ত মানুষ। মোদী জমানায় আর্থিকভাবে আদৌ কি তারা লাভবান হয়েছেন? উত্তর না বৈ হ্যাঁ হবে না। নোট বাতিল, জিএসটি-র মতো সিদ্ধান্ত সাময়িকভাবে যেন শিকল পড়িয়ে দিয়েছে সমাজের খেটে খাওয়া মানুষদের পায়ে। রান্নার গ্যাস থেকে ওষুধ পাতি, দৈন্দিন জীবনের বেশ কিছু সামগ্রির আকস্মাৎ দাম বৃদ্ধি পেয়েছে জিএসটি লাগু হওয়ার পর। এদিকে ‘ডিমনিটাইজেশন ‘ -এর পর কাজ হারিয়েছেন বেশ কিছু শ্রমিক। একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে, পূর্বের তুলনায় প্রায় ৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে মোদীর জনপ্রিয়তা। এদিকে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে বৃদ্ধি পেয়েছে ‘হিন্দুত্ববাদী ‘ গতিবিধি। অস্ত্র হাতে রাম নবমী উদযাপন, যার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। ভারতের মতো সর্ব ধর্ম সমন্বিত দেশে, নির্দিষ্ট কোনো ধর্ম বা সম্প্রদায়ের দেশ স্বাধীন হওয়ার পর শেষ কবে দেখা গিয়েছিল বলা মুশকিল। বিরোধীরা একাধিকবার দাবি করেছিল, মোদী সরকার নিজেদের ভোট ব্যাংকের কথা মাথায় রেখে রণনীতি নির্ধারণ করছে। যদিও কেন্দ্রের তরফ থেকে তা নাকোচ করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পদ্মাবতী থুরি ‘পদ্মাবত ‘ -কে কেন্দ্র করে কার্নি সেনা সারা দেশ জুড়ে তাণ্ডব চালাচ্ছে, তার বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সরকার এখনো পর্যন্ত কি কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে? উল্টে বিজেপি শাসিত গুজরাট, মধ্যপ্রদেশের মত রাজ্যে নির্ধারিত দিনে মুক্তি পায়নি বিতর্কিত এই ছবি। অথচ এ রাজ্যে দিব্বি মুক্তি পেয়ে গেল পদ্মাবত। সর্বপরি একটা প্রশ্ন উথ্থাপিত হচ্ছে, মোদীর বিদেশ সফর কতটা ফলপ্রসূ হল এত কিছু সত্বেও? দেশে বিদেশী লগ্নিকারীদের বিনিয়োগের টিকিটও খুঁজে পাওয়া যায়নি গত কয়েক বছরে। বরং রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, দেশের অন্তর্বর্তী সমস্যা গুলি ঢাকতেই প্রধানমন্ত্রীর বিদেশে পাড়ি জমানো। চমক দেওয়া অবশ্য তাঁর পুরানো অভ্যাস তা বলাই চলে। গুজরাট নির্বাচনের সময় মোদীর সি -প্লেনে সফর তো উঠে এসেছিল সংবাদ শিরোনামে। আরও একটি বিষয় কিন্তু বেশ নজর কাড়ার মতো। কংগ্রেস কেন্দ্রের ক্ষমতায় থাকাকালীন কিন্তু পাক -ভারত সীমান্তে এতোটাও উত্তাপ ছড়ায়নি, যতটা ছড়িয়েছে বর্তমানে। ভারতের তরফ থেকে ভেঙে ফেলা হল, প্রজাতন্ত্র দিবসের দিনে ওয়াঘা সীমান্তে মিস্টি বিতরণ প্রথা। ডোকলাম সমস্যা একবার স্তিমিত হওয়ার পর ফের উথ্থাপিত হল একই সমস্যা। সবই কি কাকতালীয়?

Leave a Reply

Your email address will not be published.