April 12, 2024

ইসলামপুর এ পৌর পরিষেবা লাটে উঠেছে।পৌরসভায় চেয়ারম্যান কে পাওয়া যাচ্ছে না, ভাইস চেয়ারম্যান এর আসন এখনো ফাঁকা। হচ্ছে টা কি ?

1 min read

ইসলামপুর এ পৌর পরিষেবা লাটে উঠেছে।পৌরসভায় চেয়ারম্যান কে পাওয়া যাচ্ছে না,  ভাইস চেয়ারম্যান এর আসন এখনো ফাঁকা। হচ্ছে টা কি ? 

তন্ময় চক্রবর্তী গত ২৭ শে ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য পুরসভার সঙ্গে সঙ্গে পুরভোট সম্পন্ন হয়েছিল উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জ, ডালখোলা ও ইসলামপুর পুরসভারও। পুরভোটের ফলাফল অনুযায়ী উত্তর দিনাজপুরের তিনটি পুরসভাই তৃণমূলের দখলে। তবে, বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে গোষ্ঠী কোন্দল তুঙ্গে। যার জেরে কালিয়াগঞ্জ ও ডালখোলা পুরসভার চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেও, ইসলামপুরের শুধু চেয়ারম্যানই এখনও অবধি নির্বাচিত হতে পেরেছেন, ফলে শূন্যপদ হয়ে রয়েছে ইসলামপুরের ভাইস চেয়ারম্যান পদ।

ঘটনা প্রসঙ্গে বিজেপির অভিযোগ, দলের চরম গোষ্ঠী দ্বন্দ্বের কারণেই ভাইস চেয়ারম্যান নিয়োগ করতে পারছে না তৃণমূল। কারণ তৃণমূলের সকলেই তাকিয়ে রয়েছেন ভাইস চেয়ারম্যান গোদির দিকে এই মুহূর্তে একজন দিয়ে আরেকজনকে না দিলে গোষ্ঠী কোন্দল উঠবে তুঙ্গে।এখনও ইসলামপুর পুরসভায় ভাইস চেয়ারম্যান নিয়োগ না হওয়া প্রসঙ্গে বিজেপি জেলা সহ সভাপতি সুরজিৎ সেন বললেন, “কালিয়াগঞ্জ, ইসলামপুর, ডালখোলা পুরসভায় তৃণমূল সন্ত্রাস চালিয়ে পুরবোর্ড নিজেদের দখলে এনেছে। কিন্তু এখন এই সন্ত্রাস নিজেদের দলের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে তাই ইসলামপুরে চেয়ারম্যান নিযুক্ত হওয়ার অনেক দিন  হয়ে গেলেও ভাইস চেয়ারম্যান পদ এখনও শূন্য।”সঙ্গে সুরজিৎ আরও বললেন, “বহু নির্দল প্রার্থীরা ভোটে জিতে তৃণমূলে যুক্ত হয়েছে। গোষ্ঠী কোন্দল দেখে বহু তৃণমূল কাউন্সিলররা এখন আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে।”

 

পুরসভার বাসিন্দাদের অভিযোগ, ইসলামপুর পুরসভায় এখনও ভাইস চেয়ারম্যান নিযুক্ত না হওয়ায় পুর নাগরিকরা তাদের পুর পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।তিনি আরো বলেন ইসলামপুর পৌরসভার যিনি চেয়ারম্যান হয়েছেন তিনি আবার তৃণমূল কংগ্রেসের উত্তর দিনাজপুর জেলার সভাপতি। তাই সংগঠনের কাজে ব্যস্ত থাকার জন্য পৌরসভায় তিনি সময় দিতে পারেন না এর ফলে সাধারণ মানুষরা পুর পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আজ যদি ভাইস চেয়ারম্যান থাকতো তাহলে এমন সমস্যাটা থাকতো না। কিন্তু চেয়ারম্যান কানাইলাল আগারওয়াল সেই চেয়ারম্যানের পদে থাকায় পৌরসভায় তাকে দেখাই যায় না। বহু মানুষ পৌরসভা র বিভিন্ন কাজে গিয়ে ফিরে আসতে হচ্ছে তাদের শূন্য হাতে। এমনটা চলতে থাকলে ইসলামপুরে যদি গণ বিক্ষোভ হয় তাহলে বলার কিছু থাকবে নাএপ্রসঙ্গে ইসলামপুর পুরসভার চেয়ারম্যান তথা উত্তর দিনাজপুর জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি কানাইয়ালালের মন্তব্য, “ভাইস চেয়ারম্যানকে নিযুক্ত চেয়ারম্যান করে থাকেন। সেইমাফিক ঠিক সময়মত আমি নিয়োগ করব ভাইস চেয়ারম্যান। বিজেপির গুজবে কান দেওয়ার কোনও দরকার নেই।”এলাকার সাধারণ মানুষের বক্তব্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যখন বলছেন সমস্ত পৌরসভা তেই সাধারণ মানুষ ঠিকঠাকভাবে পরিষেবা পাবেন। কিন্তু এখানে দেখা যাচ্ছে যিনি চেয়ারম্যান হয়েছেন তিনি সবসময় সংগঠনের কাজে এদিক-ওদিকে যাওয়ার ফলে পৌরসভা তে গিয়ে মানুষ পরিষেবা পাচ্ছে না। তাই এমন অবস্থায় দাঁড়িয়ে ইসলামপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান কানাইলাল আগারওয়াল কে করাটা কতটা যুক্তিসঙ্গত তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন যখন পরিষেবায় তিনি দিতে পারবেন না তাহলে চেয়ারম্যানের পদে থেকে কি লাভ হচ্ছে সাধারণ মানুষের। অবিলম্বে পৌরসভার চেয়ারম্যানের পদে অন্য কাউকে বসানো দরকার এবং ভাইস চেয়ারম্যানের আসন এ কাউকে বসানো। আর যদি এমনটা হয় তাহলে আগামী দিনে সাধারণ মানুষরা একত্রিত হয়ে বৃহত্তর আন্দোলনে পথে যেতে বাধ্য হবেন বলে অনেকেই জানান।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *