April 12, 2024

স্বজন পোষণসহ পৌর বোর্ডের অবৈধ কার্যকলাপের বিরুদ্ধে বিজেপি সোচ্চার, মুখ পুরছে তৃণমূল কংগ্রেস সংগঠনের।

1 min read

স্বজন পোষণসহ পৌর বোর্ডের অবৈধ কার্যকলাপের বিরুদ্ধে বিজেপি সোচ্চার, মুখ পুরছে তৃণমূল কংগ্রেস সংগঠনের।

তন্ময় চক্রবর্তী, কালিয়াগঞ্জ।উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ পৌরসভা। ৩৪ বছরের ১৭টি ওয়ার্ডের সীমানায় সীমাবদ্ধ পুরোনো এই পৌরসভা এইবারেই প্রথম ২০২২ সালে পৌর নির্বাচনে ১০ টি ওয়ার্ডে তৃণমূল কংগ্রেস এর কাউন্সিলরগণ জয়ী হয়ে তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত পৌর বোর্ড গঠন করে এবং ৬ টি ওয়ার্ডে বিজেপি ও ১টি ওয়ার্ডে নির্দল কাউন্সিলরগণ জয়ী হয়ে বিরোধী দলের ভুমিকায়।

 

মাত্র ৪ মাসে কালিয়াগঞ্জ পৌরসভার তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত পৌর বোর্ড কর্তৃক অবৈধ কার্যকলাপ এবং ৬ নং ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলরের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ সহ স্বজনপোষণ কীর্তি কলাপে বিরোধী দল বিজেপির হাতে যেমন আন্দোলন, ধর্না ইত্যাদি বিরোধিতা করবার রসদ উঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে তেমনি তৃণমূল কংগ্রেস দলের সংগঠনের মুখ পুড়িয়ে ঝলসে দেওয়া হচ্ছে বলে এমন অভিযোগ ৬ নং ওয়ার্ডের সর্বত্র।

৬ নং ওয়ার্ডের গৃহবধূ জয়া বর্মণ দেবশর্মা নির্বাচনে জয়ী হয়ে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে নির্বাচিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর হয়েছেন। তাঁর স্বামী পেশায় প্রাথমিক শিক্ষক বিকাশ দেবশর্মা যিনি তাঁর সহধর্মিণী কাউন্সিলর এর কাজ দেখাশোনা করছেন। আর এমনি তার দেখাশোনা করার স্টাইল যেখানে তিনি নিজেকে ভাবছেন তিনি একাধারে কাউন্সিলর এবং একাধারে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক পর্যায়ে ওয়ার্ড সভাপতি এমনি মন্তব্য, এমনি বক্তব্য ৬ নং ওয়ার্ডের বিস্তীর্ণ এলাকার তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের এমনকি বিরোধী রাজনৈতিক দলের।

 

ইতিমধ্যেই কালিয়াগঞ্জ পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলর জয়া বর্মন দেবশর্মা সহ কালিয়াগঞ্জ পৌর বোর্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগে সামিল হয়েছিল এলাকার জনগন। অভিযোগ ছিল ৬ নং ওয়ার্ডে রায়গঞ্জ বালুরঘাট স্টেট হাইওয়ের পাশে দিয়ে চলে গেছে শ্রীমতি নদী এবং উক্ত ওয়ার্ডে পঞ্চানন মোড় সংলগ্ন রাস্তাটির পাশে পৌরসভার দৈনন্দিন যাবতীয় দুর্গন্ধযুক্ত নোংরা আবর্জনা পৌরসভার গাড়ি করে নিয়ে এসে নদীর মধ্যে ফেলে স্তূপাকৃতি করে দূষন ছড়ানো হচ্ছিল। এই বিষয়ে কোনো হেলদোল দেখা যায় নি স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলর সহ তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত পৌর বোর্ডের। অভিযোগের ভিত্তিতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম খবর করলে সেই নোংরা আবর্জনা ফেলা বন্ধ হয়। এই অবস্থার স্থিতি হতে না হতেই আবার অবৈধ কার্যকলাপ এবং স্বজন পোষণের অভিযোগ কালিয়াগঞ্জ ৬ নং ওয়ার্ড তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলর জয়া বর্মন দেবশর্মা সহ কালিয়াগঞ্জ পৌর বোর্ডের বিরুদ্ধে। আর এই অভিনব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে ৬ নং ওয়ার্ডের শিক্ষানুরাগী জনগন, ধর্নায় বসে ধিক্কার জানিয়েছে কালিয়াগঞ্জ শহর বিজেপি মন্ডল এবং সর্বপরি এহেন অবৈধ স্বজন পোষণের জন্য মুখ পুড়ছে কালিয়াগঞ্জ ৬ নং ওয়ার্ড তৃণমূল কংগ্রেস সংগঠনের।

ঘটনা চক্রে কালিয়াগঞ্জ ৬ নং ওয়ার্ডে অবস্থিত রসিদপুর অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সংলগ্ন রসিদপুর জুনিয়র উচ্চ বিদ্যালয়। রসিদপুর অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিজস্ব মাঠের চারদিকে কোনো প্রাচীর ছিল না। উক্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধানশিক্ষক প্রশান্ত মিত্র তিনি বিদ্যালয় দুটির পঠনপাঠন এবং নিজ সম্পত্তি রক্ষার্থে কালিয়াগঞ্জ পৌরসভার কাছে আবেদন রাখেন বিদ্যালয়ের নিজস্ব খেলার মাঠের চারদিকে প্রাচীর নির্মাণের জন্য। সাথে আবেদন করেছিলেন বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গনে সৌন্দর্যায়ন করতে। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে কালিয়াগঞ্জ পৌর কর্তৃপক্ষ বিদ্যালয় দুটির সংলগ্ন উন্মুক্ত খেলার মাঠের চারদিকে প্রাচীর নির্মাণ করেন এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিভিন্ন খেলার সরঞ্জাম মাঠের একপাশে স্থাপন করেন। প্রাচীর বেষ্টিত মাঠে প্রবেশের জন্য একটি বড় ও একটি ছোটো গেট করা হয়।

 

প্রথম থেকেই বড় গেটে ও ছোটো গেটে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তালা মারলেও ছোটো গেটের কেউ বা কাহারা তালা ভেঙ্গে ফেলে এবং হাউসবোলের ছিদ্রের ভিতরে কুঁচি পাথর ঢুকিয়ে দেয় যাতে তালা না মারা যায়। এর কারণ এলাকার জনগন দেখতে পায় প্রত্যহ সন্ধ্যা হলেই প্রাচীরের ভিতরে বিদ্যালয়ের মাঠে অসামাজিক কার্যকলাপের আসর বসে। অসামাজিক কার্যকলাপ বলতে মদের ঠেক। এমন পরিস্থিতিতে গত ১৩ই মে ২০২২ তারিখে কালিয়াগঞ্জ পৌরসভার পৌরপতি, উপপৌরপতি, স্থানীয় কাউন্সিলর জয়া বর্মণ দেবশর্মা এবং কতিপয় কাউন্সিলররা স্থানীয় কয়েকজন কে সাথে করে নিয়ে এসে সংবাদমাধ্যমের সামনে প্রেস মিট করে ঘোষনা করেন উক্ত বিদ্যালয়ের মাঠকে পৌর পার্ক হিসেবে। এমনকি চুপিসারে পৌরসভা থেকে পৌরপতি, উপপৌরপতি পৌর বোর্ডে আলোচনা ছাড়াই উক্ত অবৈধ পার্কে ২ জন মহিলা কে পার্কে শিশুদের দেখাশোনা করার জন্য নিয়োগ করে তাদের হাতে ইতিমধ্যেই একমাসের অনারিয়াম তুলে দেন। বিশেষ করে ৬ নং ওয়ার্ড তৃণমূল কংগ্রেস কমিটির পদাধিকারীরা, দলীয় সৈনিকরা কেউ জানতেই পারলো না উক্ত পার্কে স্থানীয় কাউন্সিলর জয়া বর্মণ দেবশর্মা কোন ২ জনকে উক্ত পার্কের কর্মী হিসেবে নিয়োগ করেছেন। পরবর্তীতে সকলের গোচরে আসে স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলর তাঁর নিজের জায়া অর্থাৎ তাঁর দেওরের সহধর্মিনী এবং ঐ ওয়ার্ডের প্রাক্তন যুব তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতির সহধর্মিনী এই ২জন কে। স্বজন পোষণে চুপিসারে উক্ত অঞ্চলের স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস ওয়ার্ডের সংগঠন যেমন মাদার, মহিলা, ছাত্র,যুব সহ অন্যান্য সংগঠন কে একেবারে অন্ধকারে রেখেই এই নিয়োগ কে নিয়ে ৬ নং ওয়ার্ডে তৃণমূল কংগ্রেস সংগঠন যেমন প্রকাশ্যে না এলেও ভিতরে ভিতরে সকলেই ক্ষুব্ধ কাউন্সিলরের এরকম একনায়কতন্ত্র মনোভাবের জন্য , বিশেষ করে কাউন্সিলরের স্বামী বিকাশ দেবশর্মার কার্যকলাপে।

 

শিক্ষা দপ্তরের সরকারি লিখিত অনুমতি ছাড়া বিদ্যালয়ের টিচার ইনচার্জ কিংবা এস,আই অফ স্কুল কিংবা ডি,আই অফ স্কুল কাহারো কোনো লিখিত অনুমতি দেওয়ার সরকারি এক্তিয়ার নেই যে বিদ্যালয়ের নিজস্ব মাঠ কে পৌরসভার শিশু পার্ক হিসেবে ব্যাবহার করার। তেমনি শিক্ষা দপ্তরের অনুমতি ছাড়া বিদ্যালয়ের নিজস্ব খেলার মাঠ কে পৌর কতৃপক্ষ কোনোভাবেই সরকারি ভাবে ঘোষণা করতে পারে না শিশু পার্ক হিসেবে। কালিয়াগঞ্জ পৌরবাসী ইতিমধ্যেই জানেন হাসপাতাল পাড়ায় তিস্তার প্রজেক্টের জমিতে কালিয়াগঞ্জ পৌর পার্ক তৈরী হয়েছে। সেখানেও সরকারিভাবে এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে সরকারিভাবে অনুমতি সাপেক্ষে তৈরী হয়েছে পৌর পার্ক। আর সরকারি নিয়ম রীতি কে তোয়াক্কা না করে, নিয়ম রীতি কে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে জবরদখলের মতো বিদ্যালয়ের নিজস্ব খেলার মাঠ কে জনসাধারণের বাচ্চাদের জন্য পৌর পার্ক অবৈধভাবে ঘোষনা করা এবং অবৈধভাবে ঘোষিত এই পার্কে স্বজনপোষণে ওয়ার্ডে গরীব পরিবার থাকা সত্ত্বেও নিজ পরিবার থেকে পার্ক দেখাশোনা করার জন্য পৌর কর্মী অবৈধ নিয়োগের বিরুদ্ধে কালিয়াগঞ্জ শহর মন্ডল বিজেপির সভাপতি তথা কালিয়াগঞ্জ পৌরসভার বিজেপি পৌর কাউন্সিলর গৌরাঙ্গ দাসের নেতৃত্বে বিজেপি নেতৃত্ব এবং কর্মীরা গতকাল বিদ্যালয়ের সামনে ধর্নায় বসে সোচ্চার হয়ে তাঁরা দলীয়ভাবে ধিক্কার জানিয়ে প্রতিবাদ করে সেইসাথে বিদ্যালয়ের প্রাচীরের ভিতরে যেন কোনো অসামাজিক কার্যকলাপ নাহয় তারজন্য এলাকাবাসী কেও সজাগ থাকার অনুরোধ করেন। ৬ নং ওয়ার্ড এর বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ইতিমধ্যেই জনগন যেমন সরব হতে শুরু করেছে স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলর জয়া বর্মণ দেবশর্মার অবৈধ কার্যকলাপে তেমনি তৃণমূল কংগ্রেস সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সৈনিকরা যারা নাকি একজোট হয়ে একত্রিত ভাবে এই প্রথম লড়াই করে পৌরসভা নির্বাচনে বিজেপির চেয়ে ১৪০০ ভোটে পিছিয়ে থাকা ওয়ার্ড কে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে জয়া বর্মণ দেবশর্মা কে জিতিয়ে নিয়ে এসে এক অনন্য নজির স্থাপন করতে পেরেছেন সেই সকল নেতৃত্ব ও সৈনিকদের কেও সবদিক দিয়ে অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলর জয়া বর্মন দেবশর্মা সহ তাঁর স্বামী বিকাশ দেবশর্মা।

6 thoughts on “স্বজন পোষণসহ পৌর বোর্ডের অবৈধ কার্যকলাপের বিরুদ্ধে বিজেপি সোচ্চার, মুখ পুরছে তৃণমূল কংগ্রেস সংগঠনের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *